গাইবান্ধায় তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৭৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের আশঙ্কা, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যেই তিস্তা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে শুধু তিস্তা নয়, জেলার অন্যান্য নদ-নদীতেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদ ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, ঘাঘট নদী নতুন ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং করতোয়া নদী গোবিন্দগঞ্জের চকরহিমাপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪০৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে।
পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গাইবান্ধার সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার অন্তত ২৫টি স্থানে ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ভাঙনের কারণে ৮০০-রও বেশি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শত শত বিঘা আবাদি জমি, বসতভিটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গাছপালা। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের হাজারো মানুষ।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কালির খামার, চর চরিতাবাড়ী, রাঘব, উত্তর সীচা, লালচামার, কেরানির চর, মিন্টু মিয়ার চর ও বাদামের চর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকায় দুই শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে এবং দেড় শতাধিক বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে।
ফুলছড়ি উপজেলার চর চৌমোহন, খাটিয়ামারীর চর, রসুলপুর ও রতনপুর এলাকাতেও ভয়াবহ ভাঙন চলছে। চর চৌমোহনে ২০০-র বেশি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে চৌমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিপুল কৃষিজমি ও গাছপালা। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
সদর উপজেলার সিধাইল এলাকায় ইতোমধ্যে ২০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে স্থানীয় কওমি মাদরাসা। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে দুটি ঘর সরিয়ে নিয়েছে এবং আরও একটি ঘর ও মসজিদ দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আরও নতুন এলাকায় ভাঙন দেখা দিতে পারে। এদিকে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলার ২০ থেকে ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরি ভাঙনরোধ কাজ চলছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।