“চোখের নিমিষে ভিটেবাড়ি নদী খায়া গেল। চারটা ঘর সরাইছি, গাছপালা নদীতে চইলা গেছে। এই কষ্ট সইতে না পেরে তিন দিন পরই বাবা মারা গেছেন।”— তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে এভাবেই নিজের দুর্দশার কথা বলছিলেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চর বিদ্যানন্দ গ্রামের বাসিন্দা কাফি (৩৬)।
সোমবার (৬ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তা নদীর প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর, গাছপালা, আবাদি জমি ও ফসল। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৫ দিনে চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রামের অন্তত ১৯টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও দুই শতাধিক পরিবার।
ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্য, বাদাম, পাট, ভুট্টা, মরিচ, আমনের বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল নদীতে চলে গেছে। অনেকে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
নদীভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রামের মানুষ ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন।
স্থানীয়রা জানান, পূর্বচর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মসজিদও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়নের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
অন্যদিকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলায় প্রায় ৪০টি পয়েন্টে নদীভাঙন চলছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২ লাখ জিওব্যাগ ফেলা হলেও চরাঞ্চলে বাজেট না থাকায় এখনো কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।