ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। ‘শিক্ষার সঙ্গে শিখি আজ, পরিচ্ছন্নতা সবার কাজ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঢাকা জেলা ও মহানগরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনার আলোকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি মনিটরিং কমিটি ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠন করতে হবে। এই টিমের নেতৃত্বে থাকবেন প্রতিষ্ঠান প্রধান। এছাড়া একজন শিক্ষক সদস্যসচিব, একজন অভিভাবক প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের স্যানিটারি পরিদর্শক বা ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি এবং দুইজন শিক্ষার্থী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
‘ক্লিন স্কুল টিম’-এর প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে থাকবে—
- বিদ্যালয় ভবন, শ্রেণিকক্ষ, ছাদ, বারান্দা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা।
- ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, খোলা জায়গা ও যেখানে পানি জমে সেখানে নিয়মিত পরিদর্শন করা।
- এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
- শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি।
- পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উৎসাহ দিতে পুরস্কারের ব্যবস্থা করা।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্দেশনা পাওয়ার পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠন করে কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় শক্তি সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা। শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি নিজেদের বাড়ি ও আশপাশও পরিষ্কার রাখার অভ্যাস তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “ডেঙ্গু মোকাবিলা শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ‘ক্লিন স্কুল টিম’ শুধু একটি কমিটি নয়, এটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলার একটি ধারাবাহিক উদ্যোগ।”