রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত: কফিনবন্দী ছয় বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে আজ


ডেক্স রিপোর্ট
ডেক্স রিপোর্ট

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত: কফিনবন্দী ছয় বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে আজ
কলকাতায় নিহতদের স্বজনদের কাছে গতকাল রাতে মর্গ থেকে মরদেহগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ ছয় বাংলাদেশির মরদেহ আজ শনিবার দেশে ফিরছে। এর মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এবং একজনের মরদেহ সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হবে।

বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে আসবে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, শিশুসন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত, শ্বশুর আকরাম হোসেন এবং সাভারের আমিনবাজারের আহমেদ বাবুর মরদেহ। অন্যদিকে সাতক্ষীরার আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হবে।

শুক্রবার রাতে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকালে নিহতদের পাসপোর্ট বাতিলের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে মরদেহগুলো কলকাতা থেকে পেট্রাপোল সীমান্তের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সচালক সাব্বির হোসেন জানান, তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো সীমান্তে নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার রাতে মরদেহগুলো কলকাতার পিস ওয়ার্ল্ডের হিমাগারে রাখা হয়েছে।

পৃথক ধর্মীয় রীতিতে শেষকৃত্য ও দাফন

দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের শেষকৃত্য ও দাফন পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পৃথক ধর্মীয় রীতিতে সম্পন্ন হবে। দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর শিশুসন্তান স্বর্ণশীষের সৎকার করা হবে। শনিবার রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে বাবা-ছেলের সৎকারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের মরদেহ প্রথমে দেবাশীষের বাড়ির সামনে নেওয়া হবে। পরে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকায় আফসানার বাবার বাড়িতে নেওয়ার পর তাঁদের কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে। বাদ মাগরিব থেকে এশার মধ্যে দাফনের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে মরদেহ দেশে পৌঁছানোর সময়ের ওপর দাফনের সময়সূচি নির্ভর করবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল মামুন সাগর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় নয় বছর আগে আফসানা শারমীনকে বিয়ে করেন দেবাশীষ দত্ত। তাঁদের দুই সন্তান—মহিমা ও স্বর্ণশীষ। সন্তানদের ঘিরেই ছিল তাঁদের সংসার।

সরকারি খরচে দেশে ফিরছে মরদেহ

কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ শুক্রবার দুপুরে জানিয়েছিলেন, সরকারি খরচে নিহতদের মরদেহ দেশে পৌঁছে দেওয়া হবে। কাগজপত্রের কিছু জটিলতার কারণে শুক্রবার মরদেহ পাঠানো সম্ভব হয়নি। পরে রাতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শনিবার সকালে সড়কপথে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে সাতক্ষীরার রেবতি সরকারের মরদেহ পরিবারের ইচ্ছায় ভারতে থাকা এক আত্মীয়ের কাছে রেখে সেখানেই শেষকৃত্য করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

চিকিৎসার জন্য গিয়ে কফিনবন্দী হয়ে ফিরছেন

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে আগুন লেগে দমবন্ধ হয়ে সাত বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয়সহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে মরদেহগুলো সেখানে রাখা হয়। শুক্রবার রাতে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে কফিনবন্দী মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

চলতি মাসের ৩ তারিখ কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে স্ত্রী আফসানা শারমীন ও ছোট ছেলে স্বর্ণশীষকে নিয়ে কলকাতায় যান দেবাশীষ দত্ত। কয়েক দিন পর তাঁর শ্বশুর আকরাম হোসেনও কলকাতায় যান। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া এই পরিবারটির দেশে ফেরার কথা ছিল সুস্থ হয়ে। কিন্তু চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন কফিনবন্দী

বিষয় : ভারত খুলনা বিভাগ কুষ্টিয়া কুষ্টিয়া সদর

বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত: কফিনবন্দী ছয় বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে আজ

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ ছয় বাংলাদেশির মরদেহ আজ শনিবার দেশে ফিরছে। এর মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এবং একজনের মরদেহ সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হবে।

বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে আসবে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, শিশুসন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত, শ্বশুর আকরাম হোসেন এবং সাভারের আমিনবাজারের আহমেদ বাবুর মরদেহ। অন্যদিকে সাতক্ষীরার আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হবে।

শুক্রবার রাতে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকালে নিহতদের পাসপোর্ট বাতিলের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে মরদেহগুলো কলকাতা থেকে পেট্রাপোল সীমান্তের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সচালক সাব্বির হোসেন জানান, তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো সীমান্তে নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার রাতে মরদেহগুলো কলকাতার পিস ওয়ার্ল্ডের হিমাগারে রাখা হয়েছে।

পৃথক ধর্মীয় রীতিতে শেষকৃত্য ও দাফন

দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের শেষকৃত্য ও দাফন পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পৃথক ধর্মীয় রীতিতে সম্পন্ন হবে। দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর শিশুসন্তান স্বর্ণশীষের সৎকার করা হবে। শনিবার রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে বাবা-ছেলের সৎকারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের মরদেহ প্রথমে দেবাশীষের বাড়ির সামনে নেওয়া হবে। পরে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকায় আফসানার বাবার বাড়িতে নেওয়ার পর তাঁদের কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে। বাদ মাগরিব থেকে এশার মধ্যে দাফনের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে মরদেহ দেশে পৌঁছানোর সময়ের ওপর দাফনের সময়সূচি নির্ভর করবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল মামুন সাগর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় নয় বছর আগে আফসানা শারমীনকে বিয়ে করেন দেবাশীষ দত্ত। তাঁদের দুই সন্তান—মহিমা ও স্বর্ণশীষ। সন্তানদের ঘিরেই ছিল তাঁদের সংসার।

সরকারি খরচে দেশে ফিরছে মরদেহ

কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ শুক্রবার দুপুরে জানিয়েছিলেন, সরকারি খরচে নিহতদের মরদেহ দেশে পৌঁছে দেওয়া হবে। কাগজপত্রের কিছু জটিলতার কারণে শুক্রবার মরদেহ পাঠানো সম্ভব হয়নি। পরে রাতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শনিবার সকালে সড়কপথে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে সাতক্ষীরার রেবতি সরকারের মরদেহ পরিবারের ইচ্ছায় ভারতে থাকা এক আত্মীয়ের কাছে রেখে সেখানেই শেষকৃত্য করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

চিকিৎসার জন্য গিয়ে কফিনবন্দী হয়ে ফিরছেন

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে আগুন লেগে দমবন্ধ হয়ে সাত বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয়সহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে মরদেহগুলো সেখানে রাখা হয়। শুক্রবার রাতে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে কফিনবন্দী মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

চলতি মাসের ৩ তারিখ কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে স্ত্রী আফসানা শারমীন ও ছোট ছেলে স্বর্ণশীষকে নিয়ে কলকাতায় যান দেবাশীষ দত্ত। কয়েক দিন পর তাঁর শ্বশুর আকরাম হোসেনও কলকাতায় যান। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া এই পরিবারটির দেশে ফেরার কথা ছিল সুস্থ হয়ে। কিন্তু চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন কফিনবন্দী


বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ



কপিরাইট © ২০২৬ বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত: কফিনবন্দী ছয় বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে আজ
0:00 0:00
1.0x