বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

ইরানের বন্দর-উপকূল থেকে অবরোধ তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্র, হরমুজ প্রণালির দিকে নজর বিশ্ববাসীর



ইরানের বন্দর-উপকূল থেকে অবরোধ তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্র, হরমুজ প্রণালির দিকে নজর বিশ্ববাসীর

ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের বন্দর ও উপকূল এলাকায় আরোপিত সামরিক অবরোধ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সেন্টকোম জানায়, ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজের চলাচলে আর কোনো বাধা দেবে না মার্কিন বাহিনী। এর আগে জারি করা সব ধরনের সামরিক অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলে আরোপিত সামরিক অবরোধ প্রত্যাহার। চুক্তি স্বাক্ষরের একদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলো।

তবে এখনও বহাল রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আরোপিত অবরোধ। তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে ইরান। অবরোধকে শক্তিশালী করতে প্রণালির বিভিন্ন স্থানে জলমাইনও স্থাপন করা হয়।

ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং নিরাপদ নৌ-পরিবহন নিশ্চিত করা। তবে এখন পর্যন্ত ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ প্রত্যাহার বা মাইন অপসারণের কোনো ঘোষণা দেয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর টানা দুই রাত হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে কোনো হামলা হয়নি। তার ভাষায়, “এখন পর্যন্ত তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে।”

ভ্যান্স দাবি করেন, গত দুই দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে। যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গোয়েন্দা সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার প্রণালি অতিক্রম করেছে, যেগুলোতে মোট ৬০ লাখ ব্যারেল তেল ছিল।

বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন এ পথ দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং ৬০ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত তেল ও তরল গ্যাস পরিবহন করা হতো।

ইরানের অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পায় এবং অনেক দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির সব শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করলেও বৈশ্বিক তেলবাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে।

বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


ইরানের বন্দর-উপকূল থেকে অবরোধ তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্র, হরমুজ প্রণালির দিকে নজর বিশ্ববাসীর

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬

featured Image

ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের বন্দর ও উপকূল এলাকায় আরোপিত সামরিক অবরোধ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সেন্টকোম জানায়, ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজের চলাচলে আর কোনো বাধা দেবে না মার্কিন বাহিনী। এর আগে জারি করা সব ধরনের সামরিক অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলে আরোপিত সামরিক অবরোধ প্রত্যাহার। চুক্তি স্বাক্ষরের একদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলো।

তবে এখনও বহাল রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আরোপিত অবরোধ। তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে ইরান। অবরোধকে শক্তিশালী করতে প্রণালির বিভিন্ন স্থানে জলমাইনও স্থাপন করা হয়।

ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং নিরাপদ নৌ-পরিবহন নিশ্চিত করা। তবে এখন পর্যন্ত ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ প্রত্যাহার বা মাইন অপসারণের কোনো ঘোষণা দেয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর টানা দুই রাত হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে কোনো হামলা হয়নি। তার ভাষায়, “এখন পর্যন্ত তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে।”

ভ্যান্স দাবি করেন, গত দুই দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে। যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গোয়েন্দা সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার প্রণালি অতিক্রম করেছে, যেগুলোতে মোট ৬০ লাখ ব্যারেল তেল ছিল।

বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন এ পথ দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং ৬০ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত তেল ও তরল গ্যাস পরিবহন করা হতো।

ইরানের অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পায় এবং অনেক দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির সব শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করলেও বৈশ্বিক তেলবাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে।


বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ



কপিরাইট © ২০২৬ বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ইরানের বন্দর-উপকূল থেকে অবরোধ তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্র, হরমুজ প্রণালির দিকে নজর বিশ্ববাসীর
0:00 0:00
1.0x