জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর অভিযানে অন্তত ৭০২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৫৩ জন শিশু এবং ২২৪ জন নারী রয়েছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলাই অধিকাংশ হতাহতের জন্য দায়ী। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সাগাইং অঞ্চলে, যেখানে নিহত হয়েছেন ১৯১ জন, যার মধ্যে ৩০ জন শিশু ও ৬০ জন নারী।
গত অক্টোবরে সাগাইংয়ের একটি স্কুলের সামনে জড়ো হওয়া মানুষের ওপর বিমান হামলায় চার শিশুসহ ২৩ জন নিহত হন। একইভাবে ডিসেম্বরে ফুটবল ম্যাচ দেখতে জড়ো হওয়া লোকজনের ওপর বোমা হামলায় ১৯ জন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, মিয়ানমারের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে সামরিক বাহিনীর নিপীড়নের শিকার হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ক্রমেই কমে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নির্যাতন, নির্বিচার গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ড ও যৌন সহিংসতার বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ এবং ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় সামরিক বাহিনী আবারও অনেক এলাকায় আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে।