অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার দেশের জনঅর্থায়ন কাঠামো সংস্কার করে স্থানীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের দিকে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার উচ্চ সুদে ব্যাংক ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট-সংক্রান্ত এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফাহমিদা খাতুন।
অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান বাজেট মাত্র দেড় মাসের প্রস্তুতিতে করতে হয়েছে, যেখানে সাধারণত ছয় মাস সময় লাগে। তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল বকেয়া বিল এবং ঋণের সুদের চাপ সরকারের ব্যয় সক্ষমতাকে সংকুচিত করছে। চলতি বাজেটে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা শুধু ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার চায় মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে অর্থ পৌঁছে দিতে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় গৃহিণীদের আর্থিক স্বীকৃতি ও সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে জিডিপির ২ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ থাকলেও ভবিষ্যতে তা ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে স্কিল ডেভেলপমেন্ট, রিস্কিলিং ও আপস্কিলিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।