জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, তরুণদের জন্য দ্রুত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করা হলে ভবিষ্যতে বেকার যুবকদের ক্ষোভ থেকেই দেশে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌর মুক্তমঞ্চে দেশব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, “বিএনপি সরকারকে বলতে চাই, আপনারা আমাদের গণঅভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা ছিলেন। আপনারাও নির্যাতিত ছিলেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে, সেই দেশের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এখন আপনাদের দায়িত্ব। যদি তা করতে না পারেন, চাকরিবঞ্চিত বেকার তরুণদের ক্ষোভ থেকেই আবারও একটি অভ্যুত্থান ঘটতে পারে।”
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অসংখ্য মানুষ একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল। দীর্ঘ ৫৩ বছরের ঘুণে ধরা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা বদলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যাশা ছিল, বাস্তবে তার অনেকটাই এখনো পূরণ হয়নি।
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, গত দুই বছরে প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তন না হওয়ায় দলটি শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনীতি না করে দেশের প্রত্যন্ত উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মানুষের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তরুণ সমাজ, শিক্ষার্থী এবং জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, “বাকি ৬৩ জেলার কথা বাদ দিলাম, আপনার নিজের জেলা সিরাজগঞ্জের মানুষই সাক্ষ্য দেবে—এখানেও লোডশেডিং হচ্ছে। আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি শুনতে চাই না, বাস্তবায়ন দেখতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেড় বছরের মধ্যে ১ কোটি কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সরকার গঠনের চার থেকে সাড়ে চার মাস পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের জীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষায়, “উল্লাপাড়ায় নতুন করে এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে কি? হয়নি। মানুষের অভাব আরও বেড়েছে। এখন তরুণদের মুখে নতুন কথা—অনেক কার্ড দিয়েছেন, এবার বেকারদের জন্য একটি ‘বেকার কার্ড’ও চালু করুন।”
সমাবেশে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য আতিক মুজাহিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকারসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।